বাবা মায়ের দেয়া উপহারে চমকে গেলেন মিম

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৮ , ০৯:৩২ পিএম
বাবা মায়ের দেয়া উপহারে চমকে গেলেন মিম

বিদ্যা সিনহা মিম। ঢাকাই সিনেমার উজ্জ্বল এক নাম। ২০০৮ সালে লাক্স সুপারস্টার হিসেবে যাত্রা করেন তিনি। শুরুতেই সৌভাগ্য হয়েছিলো হুমায়ূন আহমেদের গল্প ও পরিচালনায় কাজ করার। ‘আমার আছে জল’ নামের সেই ছবিতে মিম অভিনয় করেছিলেন জাহিদ হাসান, ফেরদৌস ও মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে।

প্রথম ছবিতেই জানান দিয়েছিলেন নিজের অভিনয় প্রতিভা। এরপর দীর্ঘদিন তিনি জনপ্রিয়তা নিয়ে ছোটপর্দায় কাজ করেছেন। দেখা গেছে তাকে নানা পণ্যের বিজ্ঞাপনে। গেল কয়েক বছর ধরে আর টিভি নাটকে নেই। নিয়মিত হয়েছেন চলচ্চিত্রে। একের পর সিনেমা দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন তিনি।

আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। বয়স কতো হলো সেই প্রশ্নে মুচকি হেসে বললেন, ‘এটা সারপ্রাইজ হওয়ার মতো প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর মিলবে না। বয়সে কি আসে যায়। আজীবন অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে চাই, সবার ভালোবাসা নিয়ে ভালো ভালো কাজ করতে চাই।’

তারকার হবার পর থেকেই বদলে গেছে তার জন্মদিনগুলো। পরিবার ও বন্ধু-স্বজনদের পাশাপাশি প্রতি জন্মদিনেই এখন যুক্ত হয় হাজারো ভক্তের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। বিষয়টি উপভোগ করেন তিনি।

মিম বলেন, ‘দর্শক চান বলেই আমি কাজ করতে পারছি। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা করি আমি। জন্মদিনের মতো বিশেষ দিনগুলো এলে বুঝতে পারি তারা আমাকে কতোটা ভালোবাসেন। কাল রাত থেকেই প্রচুর শুভেচ্ছা পাচ্ছি ফেসবুক ও ফোনের ইনবক্সে। এসবই আমার কাছে বিশেষ উপহার।’

তবে এবারের জন্মদিনের সেরা উপহারটি দিয়েছেন মিমের বাবা ও মা। মিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাল রাতে বাসায় সারপ্রাইজ পার্টি ছিলো। প্রিয়জনদের কাছ থেকে সারপ্রাইজ পেতে খুব ভালো লাগে। তবে বেশি ভালো লেগেছে আব্বু ও আম্মুর দেয়া উপহার। অনেকদিন ধরেই আমার একটা সোনার টিকলি পছন্দের ছিলো। এবারের জন্মদিনে আম্মু সেটা কিনে দিয়েছেন। আর আব্বু দিয়েছেন খুব চমৎকার একটা পায়েল।’

বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় ১০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মিম। তিনি বৃশ্চিক রাশির জাতিকা। মিমের বাবা বিরেন্দ্র নাথ সাহা একজন শিক্ষক এবং মা ছবি সাহা একজন গৃহিনী। বাবা সরকারি কলেজের শিক্ষক হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বড় হয়েছেন মিম।

বাবার চাকরিসুত্রে ভোলা জেলা এবং কুমিল্লায় ছিলেন বেশ কিছু সময়। ভোলাতে কেটেছে তার শৈশব। এসএসসি ও এইচএসসি দিয়েছেন কুমিল্লায়। তবে মিমের কাছে তার প্রিয় জেলা তার জন্মস্থান রাজশাহী জেলা। মিমের ছোট একটি বোন আছে যার নাম প্রজ্ঞা সিনহা সাহা মমি।

মায়ের অনুপ্রেরণায় লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা দিয়ে শোবিজে পা রাখেন ২০০৭ সালে। হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রে অসাধারন অভিনয় করে মিম সবার নজরে আসেন। পরের বছর ২০০৯ সালে মিম অভিনয় করেন জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবিতে। এখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাকিব খান।

২০১৬ ‘জোনাকির আলো’ ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন।

বর্তমানে তার কিছু ছবি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। আর তিনি এখন কাজ করছেন সোহরাব হোসেন দোদুলের ‘সাপলুডু’ ছবিতে। এখানে তার নায়ক আরিফিন শুভ।

প্রসঙ্গত, অভিনয়ের বাইরে মিম একজন লেখক হিসেবেও পরিচিত। ২০১২ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার প্রথম গল্পের বই ‘শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভেজা’ প্রকাশিত হয়। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস ‘পূর্ণতা’।