মাটির গর্তে অদ্ভুত এক শহর


প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৮ , ০৬:০২ পিএম
মাটির গর্তে অদ্ভুত এক শহর

অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত এক শহর কোবার পেডি। গ্রীষ্মকালে এ শহরের তাপমাত্রা থাকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে শহরবাসী বাস করেন মাটির গর্তে।

শহরটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহর থেকে ৮৪৬ কিলোমিটার উত্তরে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এ শহরের জনসংখ্যা ১ হাজার ৬৯৫ জন। নারীর সংখ্যা ৭৪২, পুরুষ ৯৫৩ ও অস্ট্রেলিয়ান উপজাতি ২৭৫ জন।

কোবার পেডিকে বিশ্বের বর্ণিল পাথরের রাজধানী বলা হয়। সবচেয়ে মূল্যবান বর্ণিল পাথর এখানে পাওয়া যায়। কোবার পেডির অর্থ- সাদা মানুষের গর্ত। শব্দটি এসেছে কোপা-পিটি শব্দ থেকে।

১৯১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো কোবার পেডিতে মূল্যবান বর্ণিল পাথর পাওয়া যায়। এরপরই শহরটি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি পাথর সরবহারকারী হিসেবে পরিচিতি পায়।

বর্তমানে এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পর্যটন এলাকা। প্রতি বছর অগণিত মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। ৭০টি বর্ণিল মূল্যবান পাথরের খনি রয়েছে শহরটিতে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বর্ণিল পাথরের খনিও সেখানে অবস্থিত।

সেখানে থাকা মূল্যবান পাথর প্রথম আবিষ্কার করেন হোয়াইল হাচসন নামের এক ব্যক্তি। ১৯১৬ সালে সেখানে খনি খনন কাজ শুরু হয়।

কোবার পেডির প্রতিটি বাড়িতে তিনটি শোয়ার ঘর, লাউঞ্জ, রান্নাঘর ও গোসলের কক্ষ রয়েছে। সবই করা হয়েছে পাহাড় কেটে। প্রতিটি বাড়ির মালিকের একটি করে বাড়ি রয়েছে সমতল ভূমিতে।

গুহার ঘরগুলোর তাপমাত্রা সব সময় সহনশীল থাকে। গ্রীষ্মের সময় এয়ারকন্ডিশনের দরকার হয়। গ্রীষ্মকালে সেখানকার আদ্রতা ২০ ভাগের বেশি হয় না। আকাশ থাকে মেঘমুক্ত। শহরের গড় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মাটির নিচে রয়েছে কবর ও সাইবেরিয়ান ওথোডক্স চার্চ। সেখানে প্রথম রোপণ করা গাছটি এখনও লোহার প্রলেপ দিয়ে পাহাড়ের ওপর রাখা হয়েছে। যা প্রথমেই নজর কাড়ে পর্যটকদের।

কোবার পেডির ৬০ ভাগ মানুষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপ থেকে এসে বসতি নির্মাণ করেন। শহরটিতে ৩০৫ কোটি থেকে ২২ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।

কোবার পেডি শহরের গুহার ভেতরে রয়েছে বিশাল বাজার। আরও রয়েছে হোটেল, চার্চ, উপহারের দোকান, মিউজিয়াম, ক্যাসিনো ও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়। এ শহরে মেড মেক্স বিয়াইন্ড থান্ডারস্ট্রম, দ্য অ্যাডভেঞ্চার গা প্রিসিলা কুইন অব দ্যা ডিজার্ট ও পিচ ব্লাকের মতো বিখ্যাত ছবির শুটিং হয়েছে।

কোবার পেডির মানুষের পেশা খনি থেকে মূল্যবান পাথর সংগ্রহ করা। গুহার ভেতরে জুয়েলারি দোকানে এসব পাথর বিক্রি হয়। এ শহরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম বাস।

অ্যাডিলেট থেকে বিমানেও সরাসরি কোবার পেডিতে যাওয়া যায়। সপ্তাহে দু’বার মেইল ট্রেন মালামাল বহনের জন্য কোবার পেডিতে আসা-যাওয়া করে।