মরা নদীতে রাশি রাশি সোনা-রুপার মুদ্রা


প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০১৮ , ০৮:৩৪ এএম
মরা নদীতে রাশি রাশি সোনা-রুপার মুদ্রা

একটা শুকিয়ে যাওয়া নদী। আর তার থেকেই মিলেছে রাশি রাশি সোনা-রুপার মুদ্রা। মুদ্রাগুলো সবই প্রাচীন আমলের। হাঙ্গেরির দানিউব নদীতে পানি প্রায় নেই বললেই চলে। প্রায় শুকনো খটখটে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখান থেকেই পেয়েছেন দু’হাজারের ওপর মুদ্রা।

ফরেঞ্জি মিউজিয়ামের সঙ্গে যুক্ত প্রত্নতত্ত্ববিদ কাতালিন কোভাস জানিয়েছেন, মুদ্রা ছাড়াও মিলেছে প্রাচীন আমলের লোহার অস্ত্র, কামানের গোলা, বর্শা ও তরবারি।

বুদাপেস্টের দক্ষিণে এর্দ শহরের গা বেয়ে নদীটি যেখানে বইছে, সেখানেই মিলেছে এগুলো। ইউরোপের অন্য নদীগুলোর মতো দানিউবেরও বেশকিছু জায়গা একেবারে শুকিয়ে গেছে। মাত্র ১৫ ইঞ্চি পানিস্তর এ নদীতে।

প্রাচীন আমলের এত মুদ্রা একসঙ্গে পেয়ে উচ্ছ্বসিত গবেষকরাও। প্রত্নতত্ত্ববিদ বালজ ন্যাগি জানিয়েছেন, ৯০ শতাংশ মুদ্রাই প্রায় ১৬৩০-১৭৪৩ সালের। নেদারল্যান্ডসে তৈরি হয়েছিল মুদ্রাগুলো। এ ছাড়াও ফ্রান্স, জুরিখ ও ভ্যাটিকানের মুদ্রাও রয়েছে।

দানিউবের পাশেই বুদাপেস্টের প্রাচীন সেতুর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল নাৎসিদের হামলায়। তার পাশেই মিলেছে এ গুপ্তধনের সন্ধান।

২২ ক্যারটের হাঙ্গেরিয়ান মুদ্রা ছাড়াও ফ্রান্সের মুদ্রাগুলো যে ১৬০০ শতকে ষোড়শ লুইয়ের আমলের, তা-ও নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা। ১৭০০ থেকে ১৮০০ শতকের ইউরোপের অন্য দেশের মুদ্রাও মিলেছে।

ফরেঞ্জি মিউজিয়ামের অধিকর্তা গাবর গুলিয়াস সংবাদ সম্মেলনে প্রথম বলেন, এ প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধারের কথা। প্রথমে একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমেই গুপ্তধনের খোঁজ পেয়েছিলেন। তিনি প্রথম সেন্ট জর্জের ছবি দেয়া একটি ঘণ্টা খুঁজে পান।

তিনিই মিউজিয়ামকে জানান। তারপর শুরু হয় পুরোদমে কাজ। ১৭৪৩ সালে অস্ট্রিয়ার সম্রাজ্ঞী মারিয়া থেরেসার আমলের মুদ্রাও উদ্ধার হয়। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের অনুমান, এখানে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ মিলতে পারে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তাই আপাতত ২০২০ সালে একটি প্রদর্শনীতে এই উদ্ধার করা গুপ্তধনগুলো রাখার কথা ভাবা হয়েছে। হাঙ্গেরির অন্য অংশেও প্রদর্শনীটি করার কথা ভেবেছেন তারা।

দানিউব নদীটি জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, মলদোভা ও ইউক্রেন- এ ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে বহমান। সম্প্রতি যেখান থেকে স্বর্ণমুদ্রাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে নদীটি প্রায় শুকিয়ে গেছে। জায়গাটি বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সূত্র : আনন্দবাজার।